Dainik Purbokontho

আজকের পত্রিকা | ই-পেপার | আর্কাইভ

‘বিশ্বখাওয়া’ অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন করা হচ্ছে বিপুল সংখ্যক মানুষকে। - পূর্বকণ্ঠ

৫৪ বছরের ঐতিহ্য ‘বিশ্বখাওয়া’ ছিলেন এমপি থেকে অনেকেই

# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়াবাসীর উদ্যোগে সেই ১৯৭২ সালের পহেলা বৈশাখের রাতে প্রবর্তণ করা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী ‘বিশ্বখাওয়া’ অনুষ্ঠানের। এলাকাবাসী নিজেরা চাঁদা দিয়ে আয়োজন করেছিলেন সেই ব্যতিক্রমি অনুষ্ঠানের। এলাকাবাসী সেই অনন্য ঐতিহ্যটি এখনও ধরে রেখেছেন। করোনা মহামারির সময়টা ছাড়া কোন বছরই ছেদ পড়েনি। এখন মানুষ বেড়েছে, অনুষ্ঠানের অবয়বও বেড়েছে। সময়ের ধারায় এখন নানা বাঙালি উপকরণে দেড় সহস্রাধিক মানুষের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। র‌্যাফেল ড্রয়ের ব্যবস্থাও থাকে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। পহেলা বৈশাখের রাতে নগুয়া বকুলতলা এলাকার বিশাল চত্বরে তৈরি করা হয়েছিল প্যান্ডেল। রাত ৮টা থেকে খাওয়া-দাওয়া শুরু হয়। রাত ১২ অবধি চলে। এবার আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নগুয়া এলাকাবাসী ছাড়াও শহরের অন্যান্য এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বন্ধু-বান্ধবকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। নগুয়া এলাকার নারী-পুরুষ, ধর্ম নির্বিশেষে বৃদ্ধ থেকে শিশু নানা বয়সের মানুষ বিশ্বখাওয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পুরো এলাকা ছিল লোকে লোকারণ্য। একজন সারাক্ষণ মাইকে শৃংখলা বজায় রাখার জন্য দিকনির্দেশনা দিতে থাকেন।
একদিকে বাবুর্চি রান্না করছেন, অন্যদিকে একদল কর্মী টেবিলে টেবিলে খাবার পরিবেশন করছেন। খাবারের মেন্যুতে ছিল সাদা ভাতের সাথে পাটশাক, আলুভর্তা, চ্যাপা ভূনা, রুই মাছ, মুরগির মাংস, মুগডাল, বরইয়ের আচার, সালাদ ও বোতলজাত পানি।
আয়োজকদের অন্যতম রাজনীতিক মোস্তাক আহমেদ শাহীন, কলেজ শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মুকুল ও ব্যবসায়ী রতন জানিয়েছেন, ‘আমাদের আগের প্রজন্ম এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্বখাওয়া অনুষ্ঠান প্রবর্তণ করেছিলেন। এখন আমরা সেটি ধরে রেখেছি। এতবড় আয়োজনের কেনাকাটা থেকে দাওয়াত পৌঁছানো পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম থাকলেও অপার আনন্দ সব পরিশ্রম যেন এক গভীর তৃপ্তিতে রূপ নেয়। আশা করি আমাদের পরের প্রজন্মও এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখবে।’
মাজহারুল ইসলাম এমপি তাঁর প্রতিক্রিয়া বলেছেন, ‘আমি ৫৪ বছর ধরেই এই বিশ্বখাওয়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছি। প্রতিটি অনুষ্ঠানেই আমি অংশ নিয়েছি। এবারও আসলাম। এটি এলাকাবাসীর মধ্যে সম্প্রীতির এক অনন্য উদ্যোগ ও দৃষ্টান্ত। এখান থেকে আমাদের সবারই সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলার মানসিকতা শেখার আছে। আশা করি এই ঐতিহ্য যুগ যুগ টিকে থাকবে।’ অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, ‘আমার বাড়ি পাকুন্দিয়ায় হলেও পেশাগত কারণে নগুয়া এলাকায় বসবাস করি। আর প্রতি বছরই এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাই। এখানে এলাকাবাসীর যে মিলনমেলা হয়, দেখলে মনটা ভাল হয়ে যায়। অন্যান্য এলাকায়ও এ ধরনের সংস্কৃতির চর্চা অনুসরণ করতে পারে।’ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, ‘আমি সবসময় এই অনুষ্ঠানে আসি। এ ধরনের অনুষ্ঠান আমাকে আনন্দ দেয়, উদ্বুদ্ধ করে। এই অনুষ্ঠানের সাথে দল-মত নির্বিশেষে সবাই জড়িত হন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন, যেটা শিক্ষণীয়। আমি প্রত্যাশা করি, ৫৪ বছরের এই ঐতিহ্য ৫৪শ’ বছর টিকে থাকুক।’

Loading

Loading

নিজ বিভাগীয় নিউজ দেখুন.....
April 2026
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
Dainik Purbokontho