# মিলাদ হোসেন অপু / ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিক :-
“আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভৈরবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৮ মার্চ রোববার বিকাল ৩টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন খান এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ সাইফুল হক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জলি বদন তৈয়বা, সমবায় কর্মকর্তা রুবাইয়া বেগম, স্মার্ট প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. বাবুল হোসেন, ভৈরব ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক বাহলুল আলম বাচ্চু প্রমুখ।
অতিথিবৃন্দ ছাড়াও ভৈরব কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রশিক্ষক সৈয়দ মারুফ আহমেদ সিয়াম, ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিকসহ কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারী-পুরুষ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, যে কোন দিবসগুলো আমাদের জন্য অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের জানতে ও বুঝতে সহায়তা করে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অধিকার ও সমাজে নারীদের অবস্থান কতটুকু। নারী দিবস আমরা পালন করি আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। নিজেদের জাগ্রত করার জন্য। পুরুষের মত নারীদেরকেও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে, শিক্ষিত হতে হবে, নিজেদের মর্যাদার জায়গাটা নিজেদের তৈরি করে নিতে হবে। আমরা যতই নারীর অধিকার সমতা এবং ক্ষমতায়ন নিয়ে বলি না কেন সেই যাত্রায় নারীদের প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। বেগম রোকেয়া নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন, বেগম রোকেয়া কিন্তু তাঁর বিভিন্ন লেখনিতে তাঁর বক্তব্যে তাঁর কথায় তুলে ধরেছেন নারী এবং পুরুষের অবস্থান সমাজের সমতার জন্য দুইজনকে দুইপাশ থেকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের লেখাপড়া করতে হবে। জীবনে যা কিছুই হোক না কেন শিশু-কিশোরদের লেখা পড়া চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে নিজের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা যদি আমরা নিজেরা না করি তাহলে অন্য কেউ আমাদের এই ভাগ্য উন্নয়ন কখনোই করে দিতে পারে না। ভাগ্য পরিবর্তনের প্রধান মাধ্যম লেখাপড়া জানতে হবে। সঠিক ভাবে জ্ঞান অর্জন করতে পারলে জীবন যুদ্ধে সফল হওয়া যায়। বইয়ের মধ্যেই জীবনকে আবদ্ধ করে রাখা জীবন নয়। লেখা পড়ার পাশাপাশি নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ কালচারাল প্রোগ্রামে যুক্ত থাকা। যেমন কিশোর-কিশোরী ক্লাব একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। কিশোর-কিশোরীদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে যেন কোন শিশু সহজে ঝড়ে না পড়ে। শিশু সংগঠনগুলো সমাজে প্রণোদনার মতো কাজ করে।
এসময় মায়েদের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, আমাদের মেয়ে সন্তানদের লেখা পড়ার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। তারা যেন সঠিক শিক্ষা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সচেতন হতে হবে যেন কোন মেয়ের বাল্যবিয়ে না হয়। নিজের সন্তানকে এই ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা করবেন এমনকি কারো মেয়ে যেন এমন সমস্যার সম্মুখীন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের নারীদের অধিকার এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যেন নারী পুরুষ সমতায় চলে যায়। আমাদের নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমান তালে কাজ করে যাবে। আমাদের মায়েদের বুঝানোর দিন শেষ করতে হবে। আগামীদিনের স্বপ্ন এমনভাবে দেখতে হবে যেদিন আমরা বুঝবো নারী-পুরুষ সমানে সমান।
![]()