মূল অংশে যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ Friday, 23 October 2026
নোটিশ
সন্তানের সব আবদার পূরণ নয়, বয়স বুঝে সিদ্ধান্ত নিন : এমপি জালাল উদ্দিনভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন নিসচার বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা‎হোসেনপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার আহ্বানবন্ধ শিল্পকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীভৈরবে বালু উত্তোলনে বাধা ও ড্রেজার শ্রমিককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ গণ অধিকার পরিষদ নেতার বিরুদ্ধেসাইবার নিরাপত্তা, মিডিয়া ও সঙ্গীতে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন তরুণ প্রতিভাবান সোহান আহমেদভৈরবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগপাকুন্দিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০০ দুস্থ নারী পেলেন শাড়ি

কাজ শেষের পরও চালু হয়নি ভৈরবের কোদালকাটি সেতু, ভোগান্তিতে দুই ইউনিয়নের মানুষ

প্রকাশ: ২৫ বার পঠিত
শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

# আফসার হোসেন তূর্জা :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু এখন এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। কোদালকাটি নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির মূল কাজ প্রায় শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় চার বছরেও এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো পড়ে থাকলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শ্রীনগর ও গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোদালকাটি নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও সংযোগ সড়ক না থাকায় তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনগর ও গজারিয়া ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে সেতুটির নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ। পরে মেসার্স মুমিনুল হক এন্টারপ্রাইজ নামে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান সাব-কন্ট্রাক্টে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। এরপর সেতুটির প্রায় ৯৮ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ করা হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
এদিকে সেতু নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা অব্যবহৃত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, একটি সেতু নির্মাণের আগে দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করা হলে এতদিন ধরে এটি পড়ে থাকত না। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নকারী মেসার্স মুমিনুল হক এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদার মামুন মিয়া বলেন, সেতুর দুই পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে আদালতে মামলা হওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের পর বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়ে যে জটিলতা ছিল, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হলে সেতুটি দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে। এতে শ্রীনগর ও গজারিয়া ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-দুর্ভোগ কমবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আর বিলম্ব না করে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হোক। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটির পূর্ণ সুফল পাবেন দুই ইউনিয়নের মানুষ।

শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

এ সম্পর্কিত আরও খবর