মূল অংশে যান
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ Monday, 19 October 2026
নোটিশ
ভৈরবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগপাকুন্দিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০০ দুস্থ নারী পেলেন শাড়িভৈরবে ১৭ মামলার আসামি, চুরি ও ছিনতাইয়ের গডফাদার মেরাজ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তারভৈরবে চাঁদা না পেয়ে কারখানা মালিককে পিটিয়ে জখম, ১৬ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগবাংলাদেশের শিল্পায়ন ও জনকল্যাণের অগ্রপথিক আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম (লেখক:- মোহাম্মদ খলিলুর রহমান)ভোর থেকে পূজামণ্ডপে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ভৈরবে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমেরভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে চালক প্রশিক্ষণ, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং দক্ষ চালককে সংবর্ধনাকিশোরগঞ্জে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত

ভৈরবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশ: ৬ বার পঠিত
শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বুলবুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বুলবুল শ্রীনগর গ্রামের মৃত গোলাপ মিয়ার ছেলে। সে পুলিশি অভিযানের তথ্য পাচারের পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করাই তাঁর মূল পেশা।
স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত বুলবুল এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে নানা কৌশল ব্যবহার করেন। তাঁর ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং নিকটাত্মীয় পুলিশের এসপি পদে রয়েছেন এমন ভুয়া পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখেন।
শিমুলকান্দি ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাকির হোসেন বলেন, বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা তুলছেন। অতীতেও তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে পুলিশি হয়রানির নেপথ্যেও তাঁর হাত রয়েছে।
জাকির হোসেন আরো জানান, বুলবুল যে পুলিশের নামে নিয়মিত টাকা তোলেন, সে বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন। তবে সংগৃহীত ওই অর্থের পুরোটাই তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেন, নাকি অন্য কোথাও বণ্টন হয় সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি।
হাজী দৌলত মিয়া বলেন, বুলবুল টাকার বিনিময়ে পুলিশকে ব্যবহার করে কাজ করে দেন। আমার চুরি হওয়া মোবাইল ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে উদ্ধার করে দিয়েছেন।
মো. ইসলাম উদ্দিন নামে একজন অভিযোগকারী বলেন, আমার ছেলে এক মেয়েকে ভাগিয়ে আনলে বুলবুল আমার ছেলের কাছে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে ৫ হাজার টাকা চায়। ভয়ে আমরা বুলবুলকে ৫ হাজার টাকা দেয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, শ্রীনগর গ্রামে পুলিশ প্রবেশ করলেই বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এমন একটি গুঞ্জন এলাকায় রয়েছে। পুলিশের অভিযানের আগাম বার্তা দিয়ে তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ দেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে তাদের মামলায় ফাঁসানো বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বুলবুল মিয়া বলেন, পুলিশ আমার গ্রামে ঢুকলে আমাকে ফোন দেয় এটি সত্য। তবে পুলিশের নামে চাঁদাবাজি বা টাকা তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, বুলবুলের বিষয়ে পুরো গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। সে থানায় আতাত করে আসামি ছাড়িয়ে নেয়া ও ধরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব পালন করে। শ্রীনগর গ্রামে আমরা জনপ্রতিনিধিদের কোন রকম তোয়াক্কা না করে বুলবুল তাঁর আধিপত্য বহাল রেখেছে। মাদক কারবারিদের প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে বুলবুল। আমরা চাই বুলবুলকে আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বুলবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। পুলিশের নাম ব্যবহার করে এই ধরনের চক্রের চাঁদাবাজি একদিকে যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, অন্যদিকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

এ সম্পর্কিত আরও খবর