ভোর থেকে পূজামণ্ডপে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ভৈরবে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের
# মিলাদ হোসেন অপু :
পূজা শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ভোরের সময় প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থানে থেকে তদারকি করতে হবে। পূজারীরা যখন পূজা শেষে ঘুমাতে যাবেন, তখনই দুষ্কৃতকারীরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও দলীয় নেতাকর্মীদেরও পাহারাদারের মতো মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। নিজ নিজ এলাকায় পূজারীদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব নির্দেশনা দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকে। তারা চক্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। তাই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও মণ্ডপ পাহারায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুষ্কৃতকারীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। একটি বিশেষ দল মনে করে, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ভোটব্যাংক এবং তাদের কথায় ওঠাবসা করেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, আমরা যখনই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি কিংবা ক্ষমতায় ছিলাম, তখন আপনারা নিরাপদে ছিলেন। অতীতে অন্য দলের হাতে আপনারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছি। যেকোনো সমস্যায় আমার দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
ভৈরবে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত বছর ভৈরবে ২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে। মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা তৈরি হয়েছে বলেই পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী প্রতিমন্ত্রী পৌর শহরের কালিপুর ও ভৈরব বাজারের ঋষিপট্টি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া মেঘনা নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে. এম. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মুজিবুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও গোপাল জিউর মন্দির কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা, ভৈরব পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি চন্দন বাবু, সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ লালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



