মূল অংশে যান
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ Tuesday, 20 October 2026
নোটিশ
ভৈরবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগপাকুন্দিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০০ দুস্থ নারী পেলেন শাড়িভৈরবে ১৭ মামলার আসামি, চুরি ও ছিনতাইয়ের গডফাদার মেরাজ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তারভৈরবে চাঁদা না পেয়ে কারখানা মালিককে পিটিয়ে জখম, ১৬ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগবাংলাদেশের শিল্পায়ন ও জনকল্যাণের অগ্রপথিক আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম (লেখক:- মোহাম্মদ খলিলুর রহমান)ভোর থেকে পূজামণ্ডপে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ভৈরবে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমেরভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে চালক প্রশিক্ষণ, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং দক্ষ চালককে সংবর্ধনাকিশোরগঞ্জে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত

বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও জনকল্যাণের অগ্রপথিক আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম (লেখক:- মোহাম্মদ খলিলুর রহমান)

প্রকাশ: ১১ বার পঠিত
শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

বাংলাদেশের বেসরকারি শিল্পায়ন, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকাশের ইতিহাসে আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম এক স্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন দূরদর্শী শিল্পোদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী, সমাজহিতৈষী ও কর্মবীর। নিজের মেধা, সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি যে বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়; বরং বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে তাঁর অবদান তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় করে রেখেছে।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন আহমেদ ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত বাজিতপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মা মোছা. রহিমা খাতুন ছিলেন দানশীল ও মহীয়সী নারী।

পারিবারিক শিক্ষা, মূল্যবোধ ও পরিবেশের প্রভাবে শৈশব থেকেই জহুরুল ইসলামের মধ্যে বিনয়, কর্মনিষ্ঠা, পরোপকার এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায়। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি এসব গুণের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও জন্মভূমির মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তাঁর জীবনকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের সূচনা

জহুরুল ইসলাম স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর সরারচর শিবনাথ হাই স্কুল ও বাজিতপুর হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তী সময়ে কলকাতার রিপন হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর বর্ধমান কলেজ ও মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজে অধ্যয়ন করেন। তবে পারিবারিক ও আর্থিক বাস্তবতার কারণে তাঁর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরিসর সীমিত থাকলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৪৮ সালে মাত্র ৮০ টাকা মাসিক বেতনে সড়ক ও জনপথ-সংশ্লিষ্ট তৎকালীন সি অ্যান্ড বি বিভাগে ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চাকরির অভিজ্ঞতা তাঁকে নির্মাণকাজ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে।

১৯৫১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি বাবার সঙ্গে ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হন। সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ঠিকাদারি অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে সাফল্য অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বৃহত্তর শিল্প ও বাণিজ্যজগতে প্রবেশের ভিত্তি তৈরি করেন।

ঠিকাদারি থেকে শিল্পসাম্রাজ্য

জহুরুল ইসলামের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, ঝুঁকি গ্রহণের সাহস এবং কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয়। ঠিকাদারি ব্যবসায় অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে তিনি আবাসন, নির্মাণ, অটোমোবাইল, কৃষি, খাদ্য, ওষুধ ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত কিংবা ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইস্টার্ণ হাউজিং লিমিটেড, নাভানা গ্রুপ, আফতাব অটোমোবাইলস, আফতাব বহুমুখী ফার্মস ও ইস্টার্ণ এস্টেটস। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশে ভূমিকা রাখেন।

তাঁর ব্যবসায়িক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বহুমুখীকরণ। একটি খাতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি ব্যবসার পরিধি বাড়ান। এর ফলে নতুন নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালে লন্ডনে অফিস স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। দেশ-বিদেশে নির্মাণ ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন।

আবাসনশিল্পের বিকাশে অবদান

বাংলাদেশের আবাসনশিল্পের বিকাশে আলহাজ্ব জহুরুল ইসলামের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে তিনি নগরায়ণের ধারাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। আবাসনকে কেবল ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড হিসেবে নয়, মানুষের জীবনযাপন ও নগর ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হয় তাঁর উদ্যোগের মাধ্যমে।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম নির্মাণশিল্প, আবাসন ও সংশ্লিষ্ট খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবিকার ক্ষেত্র সম্প্রসারণেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখে।

একজন শিল্পোদ্যোক্তার সাফল্য শুধু তাঁর প্রতিষ্ঠানের আয়তন বা ব্যবসার পরিধিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং অর্থনীতিতে তাঁর উদ্যোগের প্রভাব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান দিয়েও তা মূল্যায়িত হয়। এই বিবেচনায় জহুরুল ইসলামের ব্যবসায়িক জীবন বাংলাদেশের শিল্পায়নের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানবিক উদ্যোগ

আলহাজ্ব জহুরুল ইসলামের জীবনের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে তাঁর অবদান। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, একটি এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট, ভবন কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা এবং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই উপলব্ধি থেকেই তিনি নিজের জন্মভূমি ভাগলপুরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এ অঞ্চলের চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসাশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। নার্সিং প্রশিক্ষণসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও তাঁর উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিজ এলাকায় শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ফলে মানুষের জন্য এসব সেবা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একজন সফল শিল্পপতি হয়েও নিজ জন্মভূমির মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া তাঁর দূরদর্শিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচায়ক।

দুর্ভিক্ষে মানুষের পাশে

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি জহুরুল ইসলাম ছিলেন দানশীল ও জনকল্যাণে আগ্রহী মানুষ। আত্মীয়স্বজন, এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে তিনি সামাজিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।

১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে লঙ্গরখানা স্থাপনের মাধ্যমে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। দুর্ভিক্ষের মতো সংকটময় সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু আর্থিক সামর্থ্যের পরিচয় নয়; এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতারও প্রকাশ।

জহুরুল ইসলামের জীবন থেকে বোঝা যায়, সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি সেই সম্পদ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মানসিকতা একজন মানুষকে সমাজে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মূল তাৎপর্য এখানেই।

বাজিতপুরের উন্নয়ন ও একটি স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, বিশেষ করে তাঁর জন্মস্থান ভাগলপুরের উন্নয়নে আলহাজ্ব জহুরুল ইসলামের অবদান স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকার আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখেন।

ভাগলপুরে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খামার ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে ওঠার ফলে এলাকার মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও বিস্তার ঘটে। জন্মভূমির উন্নয়নে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সম্পদ বিনিয়োগের এই প্রবণতা তাঁকে অনেক উদ্যোক্তার থেকে স্বতন্ত্র করেছে।

বাজিতপুরকে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও তিনি লালন করতেন বলে স্থানীয়ভাবে স্মৃতিচারণ প্রচলিত রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ভবন ও অন্যান্য সরকারি স্থাপনা নির্মাণে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলেও জানা যায়। তবে তাঁর জীবদ্দশায় এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।

একটি অঞ্চলের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যক্তিগত সামর্থ্য কাজে লাগানোর মানসিকতা তাঁর জীবন ও কর্মের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাজিতপুরের মানুষের কাছে তাঁর স্মৃতি তাই কেবল একজন শিল্পপতি হিসেবে নয়, জন্মভূমির উন্নয়নে নিবেদিত একজন স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ।

মৃত্যু ও কর্মের উত্তরাধিকার

১৯৯৫ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ২টা ৩০ মিনিটে ৬৭ বছর বয়সে আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অঙ্গনে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। জন্মভূমি ভাগলপুরে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হয়েছিলেন বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ পাওয়া যায়।

মানুষের জীবন একসময় শেষ হয়, কিন্তু কর্মের মধ্য দিয়ে রেখে যাওয়া অবদান দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে। জহুরুল ইসলামের জীবনও তার একটি দৃষ্টান্ত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আবাসন প্রকল্প, শিক্ষাঙ্গন ও হাসপাতাল তাঁর কর্মময় জীবনের স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তাঁর জীবন পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একজন মানুষের অগ্রগতির পথে চূড়ান্ত বাধা নয়, যদি তাঁর মধ্যে শেখার আগ্রহ, বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর দক্ষতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা থাকে। দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়িক সাফল্যকে বৃহত্তর সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। তৃতীয়ত, নিজের জন্মভূমির উন্নয়নে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ একটি অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উপসংহার

আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও বেসরকারি উদ্যোগের বিকাশপর্বের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। সাধারণ চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা অর্জন এবং পরবর্তী সময়ে বহুমুখী শিল্প ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তিনি সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

তবে তাঁর জীবনকে শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীর উত্থানের গল্প হিসেবে দেখলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জন্মভূমির উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ—এসব কর্মকাণ্ড তাঁর জীবনকে দিয়েছে বৃহত্তর সামাজিক তাৎপর্য।

আজও বাজিতপুর ও ভাগলপুরের মানুষের কাছে আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম এক স্মরণীয় নাম। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস, উদ্যোগ, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা দেয়। মানুষের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়েই যে জীবনের সার্থকতা অর্জন করা যায়, তাঁর কর্মময় জীবন সেই সত্যেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

এ সম্পর্কিত আরও খবর