ভৈরবে চাঁদা না পেয়ে কারখানা মালিককে পিটিয়ে জখম, ১৬ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
# আফছার হোসেন তূর্জা :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একটি কারখানার মালিককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১৬ লক্ষ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। ১৮ অক্টোবর রোববার দুপুর ২টার দিকে পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকার মৃত শহীদ মিয়ার ছেলে নুরুল হক (৪৫) ও তাঁর ছোট ভাই মাসুদ রানা (৪০)। তারা দুজন স্থানীয় ‘খাঁজা স্টিল ইন্ডাষ্ট্রিজ’ নামের একটি তারজালি (গুনা) প্রস্তুতকারী কারখানার যৌথ মালিক।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে দুই ভাই মিলে চণ্ডিবের এলাকায় স্টিল কারখানাটি গড়ে তোলেন। কারখানাটি লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় মোহাম্মদ আলী, তাঁর ছেলেসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। পূর্বে ভয়ের মুখে বেশ কয়েকবার চাঁদা দিলেও সম্প্রতি আবারও বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করায় তা দিতে অস্বীকার করেন কারখানা মালিকরা।
আহত নুরুল হক জানান, রোববার দুপুরে কারখানা থেকে ১৬ লক্ষ টাকা ব্যাগে নিয়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হই আমরা দুই ভাই। এ সময় মোহাম্মদ আলী ও তাঁর সঙ্গীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রামদা ও লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের দুই ভাইয়ের হাত-পায়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হলে আমরা মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এ সময় আমাদের সাথে থাকা টাকার ব্যাগটি সন্ত্রাসীরা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুল করিম জানান, আহত দুই ভাইয়ের হাতে ও পায়ে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। নুরুল হকের একটি পা ভেঙে গেছে এবং রক্তক্ষরণ বেশি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ছোট ভাই মাসুদ রানাকে স্থানীয় হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ আলী ও তাঁর সঙ্গীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভৈরব থানার এসআই আসিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ওসির নির্দেশে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




