# মোস্তাফিজ আমিন :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাঙ্গালী সনাতন হিন্দু ধর্মাম্বলীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পূজামন্ডপগুলিতে এখন চলছে উৎসবের শেষ প্রস্তুতি।
আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে এই উৎসব। ওইদিন শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গাদেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, বোধন ও আমন্ত্রণ এবং অধিবাসের মধ্যদিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এবার ভৈরবে ২৯টি মন্ডপে পূজা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ সকলের।
শরতের নীলাকাশে শুভ্র-সফেদ মেঘের ভেলা আর কাশবনের মৃদু-মন্দ বাতাসের দোলা দেখেই বুঝা যায় শারদীয় দুর্গোৎসব আসন্ন। পাল পাড়ার বাড়িতে বাড়িতে প্রতিমা কারিগরদের ব্যস্ততা যেনো সেই আগমনী বার্তা নিয়েই মন্দিরের দোরগোড়াই কড়া নাড়ছে। দোলে ওঠছে ভক্তের মন। এমনই এক আবহ বইছে এখন ভৈরবের সনাতন হিন্দু সমপ্রদায়ের প্রধানতম উৎসব, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে। চারদিকে বইছে দেবী দুর্গার আসন্ন আর্বিভাবের সাজ সাজ রব।
প্রতিমা তৈরির কারিগরদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরি কাজ প্রায় শেষ। বাকি আছে কেবল রংতুলি আর সাজসজ্জার কাজ। তাই বেশ ব্যস্ত তারা। প্রতিমার কারিগর জীবন চন্দ্র পাল, দিপু চন্দ্র পাল ও ঠাকুরধন পাল জানিয়েছেন, পুজার সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন প্রতিমা তৈরির কাজও কমে যাচ্ছে দিন দিন।
এ ছাড়া উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিমা তৈরিতে তাদের এখন আর তেমন লাভ হয় না। বাপ-দাদাদের পেশাকে তারা কোনোভাবে আকঁড়ে ধরে আছেন। তবে সরকারি উদ্যোগে সহজ শর্তে সিজনাল ঋণের ব্যবস্থা থাকলে তাদের জন্য সুবিধা হতো। অধিক সুদে ঋণ গ্রহণ করায় লাভের অধিকাংশ চলে যায় সুদ পরিশোধে।
আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসবকে সামনে রেখে পূজারি, আয়োজক ও পুরোহিত সকলেই উৎসবের আমেজ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। দুর্গাদেবীর আগমনে সকলের মঙ্গল বয়ে আসবে এ প্রত্যাশা সবার মনে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা তাদের।
প্রতিবারের মতো এবারও সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রেখে হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে এই দুর্গোৎসব উপভোগ করবেন এবং দেবী দুর্গার আগমনে সকলের মঙ্গল বয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভৈরব বাজার শ্রী শ্রী গোপাল জিউর মন্দিরের পুরোহিত নিখিল চন্দ্র ভট্টাচার্য্য, মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ ও পূজারি বাদল চন্দ্র দাস। এবার দেবী আসবেন ঘটে অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে আর চলে যাবেন দোলায় চড়ে।



