মূল অংশে যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ Friday, 23 October 2026
নোটিশ
সন্তানের সব আবদার পূরণ নয়, বয়স বুঝে সিদ্ধান্ত নিন : এমপি জালাল উদ্দিনভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন নিসচার বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা‎হোসেনপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার আহ্বানবন্ধ শিল্পকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীভৈরবে বালু উত্তোলনে বাধা ও ড্রেজার শ্রমিককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ গণ অধিকার পরিষদ নেতার বিরুদ্ধেসাইবার নিরাপত্তা, মিডিয়া ও সঙ্গীতে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন তরুণ প্রতিভাবান সোহান আহমেদভৈরবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগপাকুন্দিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০০ দুস্থ নারী পেলেন শাড়ি

কটিয়াদীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২১ পদ শূন্য, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

প্রকাশ: ৬ বার পঠিত
শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

# মাহবুবুর রহমান :-
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১২১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬৬টি পদ খালি।
শূন্য পদে নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দুই দায়িত্বই সামলাতে গিয়ে তাদের বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী পৌরসভাসহ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের একটি বড় অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের পদেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সভা, কাগজপত্র প্রস্তুত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সময় দিতে হয়। ফলে অনেক সময় তাদের নির্ধারিত শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হয়। তখন সেই ক্লাস নিতে হয় অন্য শিক্ষকদের। এতে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান সামলাতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের ওপরও বাড়তি দায়িত্ব তৈরি হচ্ছে।
চরপুক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) জামাল উদ্দিন জানান, প্রায় আট বছর ধরে তিনি চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের কাজ করছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে যারা ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পদোন্নতির বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বস্তি ফিরবে।
শিমুলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারেক হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও করতে হয়। এসব কাজের ব্যস্ততায় কখনো কখনো নিজের নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন অন্য শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হয়।
বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তন্ময় সাহা বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় তাঁদের নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাসও নিতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঠদান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি কমাতে শিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বও ভাগ করে নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের মধ্যে। ফলে শিক্ষকদের কর্মব্যস্ততা বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানেও এর প্রভাব পড়ছে।
কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদ পূরণে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষক সংকটের মধ্যেও বিদ্যালয়ের পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলতি ও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে শিক্ষক সংকটের চাপ কিছুটা কমবে।

শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

এ সম্পর্কিত আরও খবর