ভৈরবে গোয়ালঘরের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সিঙ্গাপুর প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার
# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গোয়ালঘরের পাশে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হাত-পা বাঁধা রুকন উদ্দিন (২৪) নামে এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত রুকন উদ্দিন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকার বাড়ির কৃষক সাত্তার মিয়ার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘরের পাশে গাছে রুকন উদ্দিনের মরদেহ ঝুলতে দেখেন তাঁর ভাই রুবেল মিয়া। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের ভাই রুবেল মিয়া বলেন, আমার ভাই ২১ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসেছে। রাত ১০টায় খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিল। ভোরে আমি শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে দেখি গোয়ালঘরের পাশে আমার ভাইয়ের হাত-পা বাঁধা মরদেহ ঝুলছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।
নিহতের বাবা সাত্তার মিয়া বলেন, আমার দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। ছোট ছেলে ছিল রুকন। তিন বছর আগে জমি বিক্রি করে ওকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলাম। সেখানে একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করত। সম্প্রতি সে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। দেশ থেকে ফিরে সুপারভাইজার হিসেবেই কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। বাড়ির কাজ ধরবে বলে কিছু টাকাও জমিয়েছিল। কিন্তু আমার ছেলের আর স্বপ্ন পূরণ হলো না। ও আমাদের হজ্ব করিয়ে এনেছে। ওর কোনো শত্রু ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আমি রাতে বাড়িতে থাকি না। ক্ষেতে সেচের পানি দিতে রাতে জমির পাশেই থাকতে হয়। ভোরে নাতনি ডেকে পাঠালে এসে দেখি ছেলেকে কে বা কারা মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘুরতে যাওয়ার জন্য কেনাকাটা করার কথা বলে ছেলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল, আমি তাকে কেনাকাটার জন্য ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলাম। আমার ছেলে বলেছিল কক্সবাজার যাবে বন্ধুদের সাথে নিয়ে ঘুরতে। সে জন্য সোমবার ভৈরব শহরে বন্ধুদের সঙ্গে কেনাকাটাও করে।
ঘটনার খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার ও স্বজনদের আহাজারি। আশপাশের এলাকার মানুষজন নিহতের বাড়িতে এসে ভিড় করছেন। মা-বোনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস। মা অনুফা বেগম চিৎকার করে বলছেন, আমার সোনার টুকরো ছেলেকে কেন এবং কারা হত্যা করল? আমার ছেলের তো কোনো শত্রু ছিলোনা।
মা অনুফা বেগম আরও বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার চলে যাওয়ার কথা ছিল ওর। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিল। যেহেতু ভোরে চলে যাবে, তাই রাতে খুব কথা বলতে ইচ্ছে করলেও ডাকি নাই। রাত ১টার দিকেও ওকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে শুনেছি। হঠাৎ রাত ১টার পর কোনো একসময় আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কে বা কারা বসতঘরের পাশে মেরে গাছে ঝুলিয়ে গেছে।
নিহতের বোন উম্মে হাবীবা বলেন, আমার ভাইয়ের মঙ্গলবার ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে ঘুরে এসে আবার সিঙ্গাপুর চলে যেত। বাড়ির কাজ শেষ করে দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল, বাড়ির নকশাও পছন্দ করেছিল। ওর অনেক স্বপ্ন ছিল। রাতে ওকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি ওর মোবাইল ফোন থেকে সিমকার্ড খুলে নিয়ে গেছে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা খুনির দৃষ্টান্তমূলক শস্তি চাই।
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




