মূল অংশে যান
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ Monday, 19 October 2026
নোটিশ
ভৈরবে ১৭ মামলার আসামি, চুরি ও ছিনতাইয়ের গডফাদার মেরাজ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তারভৈরবে চাঁদা না পেয়ে কারখানা মালিককে পিটিয়ে জখম, ১৬ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগবাংলাদেশের শিল্পায়ন ও জনকল্যাণের অগ্রপথিক আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম (লেখক:- মোহাম্মদ খলিলুর রহমান)ভোর থেকে পূজামণ্ডপে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ভৈরবে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমেরভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে চালক প্রশিক্ষণ, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং দক্ষ চালককে সংবর্ধনাকিশোরগঞ্জে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিতভৈরবে মানারাত পাবলিক স্কুলে English and Arabic Festival 2026 অনুষ্ঠিতডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান

ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক কমিশনার আলহাজ্ব জহিরুল হক এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশ: ৩৬ বার পঠিত
শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

# ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিক :-
দৈনিক পূর্বকণ্ঠ পরিবারের প্রধান সম্পাদক ও ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাহিদুল হক জাবেদের পিতা ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, ভৈরব পৌরসভার সাবেক কমিশনার, বায়ান্নের ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্বের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব মো. জহিরুল হক জরু মিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মাধ্যমে পালিত হয়েছে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল ও বিভিন্ন এতিমখানায় এতিমদের মধ্যে খাবার পরিবেশন করেন। জহিরুল হক জরু মিয়া ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৪ বছর।
১০ অক্টোবর শনিবার বাদ যোহর ভৈরব পৌর শহরের মেঘনা পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় একটি মাদ্রাসায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মো. মুজিবুর রহমান, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি জিল্লুর রহমান, ভৈরব ফাইন আর্ট প্রেসের স্বত্ত্বাধিকারী মাসুদ করিম খোকন, ভৈরব প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সোহেলুর রহমান, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকবৃন্দ, ভৈরবে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ মরহুমের পরিবারবর্গ।
এছাড়া ভৈরব পৌরসভা ও উপজেলার ১০টি মাদ্রাসায় বাদ যোহর মিলাদ ও দোয়া কামনাসহ উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়।
মরহুম জহিরুল হক জরু মিয়া ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও ভৈরবের রাজনীতিতে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ভৈরব পৌরসভার কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এলাকাবাসীর আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি সচেতন ও ক্রীড়ার প্রতি জহিরুল হকের প্রবল আকর্ষণ ছিল। তিনি যখন ভৈরব কেবি হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র তখনই তিনি ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি মওলানা ভাসানীর ভক্ত ছিলেন। সিলেট পাকিস্তান না ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে ১৯৪৮ সালের ওই গণভোটের আন্দোলনে তিনি কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে গণমুক্তি ফৌজ গঠিত হলে তিনি উক্ত সংগঠনের মাধ্যমে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শিবপুর এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ভাসানী ন্যাপ ও পরবর্তীতে বিএনপির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ভৈরব পৌরসভায় দুইবার তিনি নির্বাচিত কাউন্সিলর ছাড়াও বহু সামাজিক আন্দোলন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে অগ্রণী দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪৮ সাল থেকেই ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছে। জিন্নাহ সাহেব যখন ঢাকার সভায় ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভাষা। তখন থেকেই সারা দেশের মত ভৈরবেও ভাষা আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পরে। তখন ভৈরবে রাজকাচারী প্রাঙ্গণ, ফেরিঘাট ও রেলওয়ে স্টেশনে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে বিভিন্ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতো। ভাষা আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব সাধারণ মানুষকে বুঝানো জন্য ছাত্ররা সমাবেশ করতেন এবং প্রচারপত্র বিলি করতেন। ছাত্ররা স্থানীয়ভাবে ভাষা আন্দোলন বেগবান করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে, প্রায়ই তা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে প্রেরণ করা হতো। জানা যায়, তৎসময় লক্ষাধিক টাকা তারা পাঠিয়েছিলেন। উক্ত টাকা লোক মারফত রেলযোগে প্রেরণ করা হতো। কেন্দ্রীয়ভাবে ভাষা আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষে এ টাকা পাঠানো হতো। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ সাহায্য করতেন। একদিন আব্দুল মতিন ও জহিরুল হক পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সৈয়দ গোলাম মাহবুব গাজীউল হকের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তৎসময় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা সহজ ছিল না। সবসময় পুলিশি হয়রানি ও সরকারের গুন্ডা বাহিনীর বাধার সম্মুখীন তাদের হতে হয়েছে। তবু শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মায়ের ভাষার মর্যাদা আদায়ে ছাত্ররা কখনো পিছপা হননি। কারণ মায়ের ভাষার প্রতি একটা আবেগ আপ্লুত করত ভাষা আন্দোলনে তৎকালে যারা জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে আবদুল মতিন (জগন্নাথপুর), জহুরুল হক জরু মিয়া (ভৈরবপুর), মো. ইদ্রিস (অধ্যক্ষ), মিন্নাত আলী (কথা সাহিত্যিক), হুমায়ুন বারী (চণ্ডিবের), আ. হালিম মোল্লা (চণ্ডিবের), সিদ্দিক মিয়া (চণ্ডিবের), নাজিমুদ্দিন, আবু সাঈদ (ভৈরবপুর), আবদুস ছাত্তার (ভৈরবপুর), ইমামউদ্দিন (ভৈরবপুর), হাবিবুল্লাহ (ভৈরবপুর) অন্যতম।

শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn