ভৈরবে ভয়াবহ আগুনে ২২টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে পথে বসেছে দিনমজুরদের পরিবার
# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ২২টি বসতঘর। এতে করে পথে বসেছে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুরদের পরিবার। অগ্নিকাণ্ডে ঘরগুলোতে থাকা নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ বেশ কিছু স্বর্ণালংকার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন। ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকার কালাম মিয়ার বাড়িতে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট স্থানীয় যুবসমাজের সহায়তায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ-১২ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর আজিজুল হক রাজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকার কালাম মিয়ার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় এক ঘর থেকে অন্য ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং একে একে অসহায় দিনমজুরদের ২২টি ঘর পুড়ে যায়। এসময় প্রথমে স্থানীয় যুবসমাজ আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের টিম সাড়ে ৬টায় গেলে পৌনে ৮টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসহায় দিনমজুরদের পরিবার।
প্রতিবেশী হেলেনা বেগম ও তাকমিনা বেগম বলেন, চোখের সামনে আমাদের অসহায় স্বজনদের ঘরগুলো পুড়ে গেছে। আমাদের পাকা ঘর থাকায় কোনো রকমে প্রাণে বেঁচেছি। প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবার সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকার তাদের সহায়তা না করলে অনাহারে দিন কাটাতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, আমি মাগরিবের নামাজ শেষে রাস্তায় দাঁড়ানোর পর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি পাশের বাড়িতে আগুন লেগেছে। সাথে সাথে আমার বিল্ডিংয়ের রিজার্ভ পানির ট্যাংক থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করি। পরে স্থানীয় যুবসমাজ যেভাবে পেরেছে আগুন নেভাতে সহায়তা করেছে। ৯৯৯-এ কল করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই।
তিনি আরও বলেন, যাদের ঘর পুড়েছে, তারা সবাই দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। আজ তারা পথে বসেছে। কেউ আইসক্রিম বিক্রি করে, কেউ চায়ের দোকানে চাকরি করে, আবার কেউ রিকশা-অটো চালায়। সরকার এদের পাশে না দাঁড়ালে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
আগুনে পুড়ে গেছে কালাম মিয়ার বসতঘরও। তিনি নিজে অসুস্থ এবং তাঁর স্ত্রী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এসে দেখেন বসতঘর পুড়ে ছাই। ঘরে রাখা ছিল মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সঞ্চিত কিছু নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কীভাবে মেয়েকে বিয়ে দেব? আমি তো একদম নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
ক্ষতিগ্রস্ত নাজমুল, নাইম ও আলী হোসেন বলেন, আমরা এখন পথে বসেছি। গায়ের পড়নের কাপড়টুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব জানি না। এখন সাহায্য না পেলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
ময়মনসিংহ-১২ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর আজিজুল হক রাজন বলেন, খবর পেয়ে প্রথমে আমরা ভৈরব বাজার ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি। আগুনের তীব্রতা দেখে ভৈরব নদীর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার স্টেশন থেকে আরও একটি ইউনিট আনা হয়। মোট ৪টি ইউনিট স্থানীয়দের সহায়তায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতে ঘটনাটি ঘটায় ঠিক কতগুলো ঘর পুড়েছে এবং কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানানো যাবে।
তিনি স্থানীয়দের বরাতে জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।




