মূল অংশে যান
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ Wednesday, 21 October 2026
নোটিশ
ভৈরবে বালু উত্তোলনে বাধা ও ড্রেজার শ্রমিককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ গণ অধিকার পরিষদ নেতার বিরুদ্ধেসাইবার নিরাপত্তা, মিডিয়া ও সঙ্গীতে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন তরুণ প্রতিভাবান সোহান আহমেদভৈরবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগপাকুন্দিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০০ দুস্থ নারী পেলেন শাড়িভৈরবে ১৭ মামলার আসামি, চুরি ও ছিনতাইয়ের গডফাদার মেরাজ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তারভৈরবে চাঁদা না পেয়ে কারখানা মালিককে পিটিয়ে জখম, ১৬ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগবাংলাদেশের শিল্পায়ন ও জনকল্যাণের অগ্রপথিক আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম (লেখক:- মোহাম্মদ খলিলুর রহমান)ভোর থেকে পূজামণ্ডপে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ভৈরবে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের

ভৈরবে ‘ডেঙ্গু নগরী’ খ্যাত পৌর ২নং ওয়ার্ডে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৮ বার পঠিত
শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

# মিলাদ হোসেন অপু :-
ভৈরবে একই এলাকায় ফের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। ৪ অক্টোবর রোববার সকাল ১০টায় ‘ডেঙ্গু নগরী’ খ্যাত পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় বাগানবাড়ি রোড মনামারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা ও আইস কোম্পানির মোড়ে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রশাসনের অবহেলা ও মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পৌর শহরের মধ্যে ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়াতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যাও ২ নম্বর ওয়ার্ডেই বেশি।
এদিকে বেলা ১২টার দিকে বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে অবরোধকারীদের দাবি মেনে নিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করিয়ে নেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম আজিমুল হক।
এর আগেও গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২ নম্বর ওয়ার্ডবাসী ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষে দুটি বড় ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে ভৈরবের একই সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছিলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ¦ মুহাম্মদ জাহিদুল হক জাবেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আরিফুল হক সুজন, পৌর ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনিস উল্লাহ মিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী ইসমাইল, যুবদল সভাপতি জাহিদ মিয়া (জাবেদ), ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ, রাকিব হাসান ও শহীদ মিয়া প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ¦ মুহাম্মদ জাহিদুল হক জাবেদ বলেন, ভৈরবে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। শহরের প্রতিটি বাড়িতে ডেঙ্গুর রোগী রয়েছে। এদিকে পৌর ২নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৪ থেকে ৫ জন করে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই ওয়ার্ডের ২০ থেকে ২৫ জন রোগী ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। আমরা চেম্বারের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানাবিধ উদ্যোগ নিলেও পৌর ২নং ওয়ার্ডে দিন দিন ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এর কারণ চিহ্নিত করে তিনি বলেন, পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট ছোট ময়লার একাধিক স্তূপের পাশাপাশি দুটি বড় ভাগাড় রয়েছে। এর মধ্যে বাগানবাড়ি রোড মনামারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা ও ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন রোডের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। সেগুলোর ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না করলে শুধু ডেঙ্গু নয়, ওই ওয়ার্ডের মানুষের মাঝে নানা রোগব্যাধি ছড়াবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভৈরব পৌর প্রশাসককে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম আজিমুল হক বলেন, ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। আমরাও ভৈরবে বসবাস করি। আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ ভৈরববাসীর সুরক্ষা আমাদেরই দিতে হবে। এই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে স্টেশন এলাকার ময়লার ভাগাড় অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে মনামারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার ময়লার ভাগাড় অপসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ময়লা ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণসহ বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সচেতনতামূলক প্রচার নয় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন, দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি করছে উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ড. কিশোর কুমার ধর বলেন, যতক্ষণ না আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, ততক্ষণ ডেঙ্গু থেকে কেউ রেহাই পাবে না। আমার পরিবারও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত। কেবল আমি সচেতন হলেই যে ডেঙ্গু হবে না তা নয়, আমাদের চারপাশের এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে।
তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন এবং বহির্বিভাগে প্রতিনিয়ত কয়েক শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দ্বিগুণ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও প্রতিদিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগী সেবা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলা ও আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

এ সম্পর্কিত আরও খবর