পরিকল্পিত নগরায়ণ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতেই গড়তে হবে বাসযোগ্য ও মানবিক সমাজ
#কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:-
বিশ্ব বসতি দিবস ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবস দুটির তাৎপর্য তুলে ধরা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন। র্যালিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ব বসতি দিবস ও বিশ্ব শিক্ষক দিবসের বিভিন্ন বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে।
পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, একটি সুন্দর, নিরাপদ ও টেকসই বসতি মানুষের মৌলিক জীবনমান নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত। পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নিরাপদ আবাসন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না; তাঁরা জ্ঞান, মূল্যবোধ, মানবিকতা ও নৈতিকতার আলোয় একটি প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই শিক্ষকদের মর্যাদা, পেশাগত সক্ষমতা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা যেমন একটি মানবিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার, তেমনি মানসম্মত শিক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষকতা নিশ্চিত করাও উন্নত জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, গণপূর্ত বিভাগ কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান মারুফ, সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রতিনিধিসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এ ছাড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
দিবস দুটির কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সবার জন্য নিরাপদ, টেকসই ও বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করা যেমন একটি মানবিক সমাজের অঙ্গীকার, তেমনি শিক্ষকের হাতে গড়ে ওঠে আগামী দিনের মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্র। তাই টেকসই বসতি ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।




