কুলিয়ারচরে হানিফ হত্যা পাঁচ মাস পর বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
চাঞ্চল্যকর হানিফ মিয়া হত্যা মামলার প্রায় পাঁচ মাস পর অবশেষে এজাহারভুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৭ অক্টোবর বুধবার কুমিল্লার দেবিদ্বার থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন (৪০) ও তাঁর ছেলে সজিব মিয়া (২০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ মে রাতে হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৪ মে কুলিয়ারচর থানায় হানিফ মিয়া হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় জাকির হোসেনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার এজাহার ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা যায়, জাকির হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ছিল। এলাকার কয়েকজন যুবক মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। নিহত হানিফ মিয়াও তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জাকির মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পেছনে হানিফ পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন এমন সন্দেহ থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার দিন ১৩ মে রাত ১০টার দিকে হানিফ তাঁর স্ত্রীকে জানান, আনোয়ার হোসেন ফোন করে তাকে জাকিরের বাড়িতে যেতে বলেছেন। পরে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে হানিফ তাঁর স্ত্রীকে ফোন করেন। ওই সময় ফোনের অপর প্রান্ত থেকে হানিফের কণ্ঠে শোনা যায়, জাকির ভাই, তুমি আমারে আর মাইরো না, আমাকে প্রাণ ভিক্ষা দাও। এরপরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হানিফের ফোনের পর পরিবারের সদস্যরা জাকিরের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে তারা বাড়ির ভেতর থেকে হানিফের চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাত আড়াইটার দিকে হানিফের শ্বশুর বকুল মিয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় আয়েতউল্লাহ নামে একজনকে বাড়ির সিলিং থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
পরে রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে জাকিরের বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে জসিম উদ্দিনের কাঠবাগানের জমি থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতসহ সার্বিক বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন ও তাঁর ছেলে সজিব মিয়াকে বর্তমানে কুলিয়ারচর থানায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
প্রায় পাঁচ মাস পর মামলার এজাহারভুক্ত বাবা-ছেলে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঞ্চল্যকর হানিফ হত্যা। এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আসলে কী ছিল এবং এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত।




