দুর্গাপূজা ঘিরে কিশোরগঞ্জে কড়া প্রস্তুতি
# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কিশোরগঞ্জে নিরাপত্তার চাদর জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিমা বিসর্জন—প্রতিটি বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে পূজামণ্ডপে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বলা হয়, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় রেখে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেলার সব উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদযাপন ফোরামের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ মণ্ডপে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পূজা চলাকালে কোনো ধরনের গুজব, উসকানি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও অংশীজনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় সভায়।




