ভৈরবে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের সাথে বনিবনা না হওয়ায় বাসের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা
# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের সাথে ঝগড়া ও বনিবনা না হওয়ায় চলন্ত বাসের সামনে ঝাঁপ দিয়ে নাহিদা আক্তার (২৪) নামে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। ১৪ অক্টোবর সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ১৩ অক্টোবর সোমবার রাত ৯টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ও ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভৈরব হাইওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী।
নিহত নাহিদা আক্তার উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন চান্দেরচর গ্রামের ইন্নুছ মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার কুলিয়ারচর পৌর শহরের মহিপুর এলাকার এক যুবকের সাথে ৫ বছর আগে বিয়ে হয় নাহিদা আক্তারের। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে বনিবনা না থাকায় গত ১ বছর আগে দুইজনের মধ্যে তালাক হয়। এদিকে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শ পাড়ার সরকার বাড়ির ইয়াসিন নামে এক ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে নাহিদার। এই সম্পর্কের জেরেই তাঁর সংসার ভাঙ্গে। সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে ইয়াসিনের পরিবার ও নাহিদার পরিবারের পক্ষ থেকে আলোচনা সিদ্ধান্ত হয় ১৩ অক্টোবর তাদের বিয়ে হবে। বিয়ের দিন ইয়াসিন বিয়ে না করার অস্বীকৃতি জানালে অভিমানে নাহিদা আক্তার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলন্ত বাসের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। বাসের ধাক্কায় নাহিদার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে এক যুবকের সঙ্গে নাহিদার তর্কাতর্কি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে সড়কের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালে ভৈরব থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী একটি চলন্ত বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সড়কের পাশে থাকা একটি করাতকলের (স’মিল) নৈশপ্রহরী জহির মিয়া বলেন, আমি দূর থেকে দেখেছি মেয়েটি হঠাৎ দৌড়ে এসে একটি বাসের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। একটি চলন্ত বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। আমরা উদ্ধার করতে দৌড়ে গিয়ে দেখি বাসের ধাক্কাতেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের বাবা ইন্নুছ মিয়া বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত সম্পর্ক গড়েছিল ইয়াছিন। তাঁর কারণেই আমার মেয়ের সংসার ভেঙ্গেছেন। ১১ অক্টোবর সালিশি দরবারে সিদ্ধান্ত হয় ইয়াছিন আমার মেয়েকে ১৩ অক্টোবর বিয়ে করবে। কিন্তু সোমবার ডেকে এনে বিয়ে না করা কথা জানালে আমার মেয়ে বাসের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করে।
এ বিষয়ে নিহতের বোন তহিদা আক্তার বলেন, আমার বোনকে বিয়ে না করার জন্য ডেকে এনে ইয়াছিন হত্যা করেছে। আমরা ইয়াসিনের ফাঁসি চাই।
ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী ভৈরব থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী একটি চলন্ত বাসে সামনে ঝাপ দিয়ে নাহিদা আত্মহত্যা করেছে।
তিনি আরো বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার ঠিক আগেই একটি ছেলের সঙ্গে মেয়েটির কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি সমাধানের চেষ্টাও করেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই মেয়েটি সড়কে বাসের নিচে চাপা পড়েন।
ওসি আরো বলেন, ধাক্কা দেওয়া বাসটি ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। ঘটনার পরপরও বাসটি পালিয়ে গেছে। ঘাতক বাস ও চালককে শনাক্ত করতে হাইওয়ে থানা ও ভৈরব থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




