ভৈরবে স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
# ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিক :-
‘আমাদের হাত, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার উদ্যোগে স্যানিটেশন মাস অক্টোবর ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, হাত ধোয়া কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সাবান দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ভৈরব পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। র্যালির মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির বার্তা দেওয়া হয়।
র্যালি শেষে হাত ধোয়া কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভৈরব পৌরসভা কার্যালয়ের তৃতীয় তলার সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ভৈরব পৌরসভার উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও ভৈরব পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক, ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক বাবুল আক্তার, পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের নানা কাজের মধ্য দিয়ে হাত জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। তাই খাবার গ্রহণের আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পরে এবং হাত ময়লা হলে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করা গেলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিস্তার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও বলেন, শুধু বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস বা বিশেষ কোনো কর্মসূচির মধ্যেই পরিচ্ছন্নতার চর্চা সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার অভ্যাসকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হাত ধোয়া নিজের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার একটি প্রতীক হিসেবেও কাজ করে। আমার সামনে যারা শিক্ষার্থী আছো, তাদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ থাকবে, আমরা যেন নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস ও চর্চা করি।
তিনি আরো বলেন, শুধু নিজে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুললেই হবে না, বন্ধু-বান্ধব ও আশপাশের শিক্ষার্থীদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে। এ জন্য দীর্ঘ বক্তব্য কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রচারের অপেক্ষায় থাকার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কথোপকথনের মাধ্যমেও সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, কেউ খাবার খাওয়ার সময় হাত ধুয়েছে কি না এমন ছোটখাটো সচেতনতামূলক প্রশ্নের মাধ্যমেও এই অভ্যাসটা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। নিজে খাবার খাওয়ার সময়ও হাত ধুয়েছি কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতার চর্চা নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকে নিজের দৈনন্দিন জীবনে হাত ধোয়ার নিয়ম অনুসরণ করলে এবং আশপাশের মানুষকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই হাত ধোয়ার বিষয়ে আরও সচেতন হবে, নিয়মিত সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখবে এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করবে।
স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভৈরব পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা দেওয়া হয়। বক্তারা মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সম্মিলিত উদ্যোগই একটি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।




