কিশোরগঞ্জের ৭ ইউনিয়নে এক বছরে বাল্যবিয়ে ৪৯৬
# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কোভিডের মধ্যে ৪৯৬টি বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে বন্ধও করা হয়েছে ৩০৯টি বিয়ে। বেসরকারি সংস্থা পপি’র মাঠ পর্যায়ে একটি গবেষণাধর্মী জরিপকার্যে প্রাপ্ত ফলাফল নিয়ে সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটির জেলা সমন্বয়ক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম আজ ২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে শহরের বত্রিশ এলাকার কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সদর উপজেলার যশোদল, বিন্নাটি ও মারিয়া ইউনিয়ন, পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ও চণ্ডিপাশা ইউনিয়ন এবং হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ও শাহেদল ইউনিয়নের ৮৬টি গ্রামে বাল্যবিয়ের এসব ঘটনা ঘটেছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রতিটি গ্রামে পপি’র ১০০ জন নারী ও পুরুষ কর্মী ‘নারী ও কিশোরীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ প্রকল্প’ নিয়ে কাজ করেন। তারাই মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বাল্যবিয়ের ওপর নিবিড় জরিপকাজটি পরিচালনা করেন। এই এক বছরে যেমন ৪৯৬টি বাল্যবিয়ে হয়েছে, আবার এরা ৩০৯টি বাল্যবিয়ে বন্ধও করেছেন। এছাড়া এই এক বছরের মধ্যেই বাল্যবিয়ের পর সংসার ভেঙে যাওয়ার তথ্যও রয়েছে। যেসব কিশোরী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে, এদের অধিকাংশই স্কুলছাত্রী ছিল। এর বাইরে ৭টি ইউনিয়নে সহিংসতার শিকার ৬৬৬ জন নারী ও কিশোরী আইন সহায়তাও পেয়েছে।
জরিপে বাল্যবিয়ের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অসচেতনতা, কোভিড পরিস্থিতিতে পরিবারের আয় কমে যাওয়া, মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, প্রেমঘটিত ঘটনা ইত্যাদি। এসব বিয়ের ক্ষেত্রে নিবন্ধনহীন বিয়ে, বয়স জালিয়াতি এবং নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিটের ঘটনাও আছে বলে সভায় জানানো হয়। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পপি কর্মকর্তা সালমা পারভীন, শাহীন হায়দার, আব্দুল আহাদ ও মাঠ পর্যায়ে কাজ করা বেশ কিছু কর্মী।




